ত্রিপুরায় একাধিক বিধায়ক যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলে! অস্বস্তি বাড়ছে বিজেপি শিবিরে

0

ত্রিপুরায় অঙ্কুর গজাচ্ছে ঘাসফুল। পশ্চিমবঙ্গে মুকুল রায় তৃণমূলে ফেরার পর থেকে বিদ্যুত গতিতে অঙ্কুরোদ্গম ঘটছে ঘাসফুলের। অবশ্য আগে থেকেই শাসকদল থেকে কয়েকজন বিধায়ক বিদ্রোহী হয়ে শিবির বদলানোর পরিকল্পনা করছিলেন। এবার মুকুলের আগমনে তা আরো গতি পাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মুকুলের ছেলে শুভ্রাংশু থেকে শুরু করে দলের একাধিক নেতৃত্বের দাবি, ত্রিপুরার শাসকদলের বেশ কিছু বিধায়ক যোগাযোগ করছে তৃণমূলের সঙ্গে। দুবছর পর ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই মুকুল ঘনিষ্ঠ বিধায়করা শিবির বদলে করতে পারেন, এমন জল্পনা মাথাচাড়া দিতেই আসরে পদ্মশিবিরের হাইকম্যান্ড। ঘর বাঁচাতে ত্রিপুরার রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করলেন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক বি এল সন্তোষ।

বুধবার সকাল থেকে দফায় দফায় রাজ্য সভাপতি ড. মানিক সাহা, দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক ফণীন্দ্রনাথ শর্মা-সহ একাধিক রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন সন্তোষ। যদিও বিজেপির দাবি, এটা রুটিন সাংগঠনিক বৈঠক। কিন্তু একথা আর গোপন নেই, ঘর বাঁচাতে মরিয়া বিজেপি। প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মনের নেতৃত্বে একাধিক বিদ্রোহী বিধায়ক তৃণমূলে যেতে পারেন বলে গুঞ্জন। একসময় তিনি-সহ অনেকেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসেছিলেন। এবার উল্টো স্রোত ত্রিপুরায়। সেটাই চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বিজেপির কপালে

কিন্তু শাসকদলে কেন এমন ভাঙনের সম্ভাবনা, বিধানসভা ভোটের তো তাও বছর দুয়েক দেরি। তার অন্যতম কারণ, মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। গত বছর সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার সঙ্গে দিল্লিতে দেখা করতে যান সুদীপ-সহ ছয়  বিধায়ক। মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নালিশ করতেই সেই দিল্লি যাত্রা ছিল। কিন্তু নাড্ডার কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়ে পরে তাঁরা জনসমক্ষে জানান, সাংগঠনিক বৈঠক করতে গিয়েছিলেন। গত বছর রাজ্য পর্যবেক্ষক বিনোদ সোনকারের সামনেই ‘বিপ্লব হটাও, বিজেপি বাঁচাও’ স্লোগান তোলেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা।

এদিন বিকেলে মানিক সাহা সাংবাদিকদের বলেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রত্যেক বিধায়ক ও মন্ত্রীদের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে বৈঠক করেছেন। জানিয়েছেন, “বিনোদ সোনকারজি ত্রিপুরা সফরে এসেছেন, রাজ্য নেতা, সাংগঠনিক নেতৃত্ব, উপমুখ্যমন্ত্রী এবং সব বিধায়কদের সঙ্গে তিনি এক এক করে কথা বলেছেন। আগামিদিনের সাংগঠনিক দিশা দেবেন তিনি। পাশাপাশি শরিক দল আইপিএফটি-র সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে।”

কিন্তু দলবদল নিয়ে মানিকের পাল্টা যুক্তি, “এমন কোনও সম্ভাবনাই নেই। সব বিধায়করা দলের সঙ্গেই আছেন। বিজেপি পরিবারে সব কিছু ঠিক আছে।” তবে নেতৃত্ব নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন অনেক বিধায়ক। সে প্রসঙ্গে রাজ্য সভাপতির মন্তব্য, “পরিবারে অনেক সময় মতানৈক্য হয়। তবে সেগুলি মিটিয়ে নেওয়া হবে।” এবার বিজেপি ভোটের আগে আদৌ ভাঙন আটকাতে পারে কি না সেটাই দেখার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here