পেনশনের টাকা নিয়ে যায় ছেলে, মা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন

0
তরঙ্গ বার্তা ডেস্ক : পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার শহর সংলগ্ন পল্লিমঙ্গল ক্লাবের পাশেই বাড়ি বৃদ্ধা মিলন পণ্ডিতের। তাঁর স্বামী বিভূতিভূষণ পণ্ডিত ভারতীয় বিমানবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে কর্মরত ছিলেন। হাসিমারা বিমান ঘাঁটিতেই তাঁর পোস্টিং ছিল। চাকরি থেকে অবসরের পর জিত্পুর এলাকাতে তাঁরা বাড়ি করেন।
এই বাড়িতেই স্ত্রী, দুই ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে থাকতেন তাঁরা। প্রায় দশ বছর আগে মারা যান বিভূতিভূষণবাবু। পরে ছেলে-মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় একাই ওই বাড়িতে থাকতেন বৃদ্ধা মিলনদেবী।
স্বামীর মৃত্যুর পর নিয়মিত পেনশন পান স্ত্রী মিলন পণ্ডিত (৬৩)। পেনশন তোলেনও। কিন্তু কোনো মাসের টাকাই তিনি রাখতে পারেন না। তাঁর ছোটো ছেলে এসে সব টাকাই নিয়ে যান।
মিলনদেবীর স্বামী মারা যাবার পর তিনি পেনশনের টাকাতেই চলতেন। কিন্তু বেশ কয়েক বছর থেকে কেউ তাঁকে দেখতে আসেন না। কিন্তু প্রতিমাসে তাঁর ছোটো ছেলে জ্যোতি পণ্ডিত এসে মিলনদেবীকে ব্যাংকে নিয়ে যান। পেনশনের টাকা ব্যাংক থেকে তুলে ফের বৃদ্ধাকে বাড়িতে রেখে চলে যান বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা প্রবীর সরকার, ববিতা দত্তরায় প্রমুখ বলেন, ওই বৃদ্ধার বড়ো ছেলের মানসিক সমস্যা আছে। তিনি কোথায় থাকেন, কী করেন কেউ সঠিক জানেন না। ছোটো ছেলে হাসিমারায় থাকেন, কিন্তু মাকে দেখেন না। তাই প্রায় অভুক্ত অবস্থায় সারা মাস ঘরের মধ্যে পড়ে থাকেন বৃদ্ধা।
পাড়াপড়শিরা মাঝেমধ্যে যা খাবার দেন তা খেয়ে বেঁচে আছেন তিনি। কিন্তু ওই টাকা নাকি নিয়ে যান তাঁর ছোটো ছেলে। সারা মাস আর তাঁর খবর রাখেন না পরিবারের কেউ। তাই এখন অনাহারেই দিন কাটছে তাঁর।
অবস্থা এতটাই খারাপ যে একটি পরিত্যক্ত, অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘরে দিন কাটছে মিলনদেবীর। ঘরটির অবস্থা অস্বাস্থ্যকর। ঘরে কোনো বিছানা না থাকায় মেঝেতেই শুয়ে থাকেন বৃদ্ধা মিলনদেবী। তাঁর এই অবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে শুধু তিনি মাথা নাড়েন আর চোখ দিয়ে সমানে জল গড়িয়ে পড়ে। অন্ধকারাচ্ছন্ন ঘরের মতোই তাঁর ভবিষ্যতও অন্ধকারাচ্ছন্ন কিনা সেটাও তিনি জানেন কিনা তা কারও জানা নেই।
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, একজন বৃদ্ধা পরিবারের অবহেলায় যেভাবে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন তা আর তাঁরা সহ্য করতে পারছেন না। বরং তাঁকে কোনো বৃদ্ধাশ্রম বা হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করার আর্জি জানিয়েছেন।
পাড়াপড়শিরা যে অভিযোগ করছে তা ভিত্তিহীন বলে মিলনদেবীর ছোটো ছেলে জ্যোতি পণ্ডিত জানান, আসলে মা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তাই তাঁকে একটি বৃদ্ধাশ্রমে রেখে চিকিৎসা করানোর খোঁজখবর নিচ্ছি। ভালো জায়গা পেলে মাকে হোমে চিকিৎসা করাব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here