মুকুলের প্রস্থানের পর বাংলায় দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করাতে চান শুভেন্দু, চেষ্টা জারি

0

এবার দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করবেন শুভেন্দু অধিকারী। মুকুল রায়ের সপুত্র তৃণমূলে যোগদানের পরিপ্রেক্ষিতে  এমন কথা বলেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ও ব্লক সভাপতিদের বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক সেরে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাফ জানিয়ে দেন, বাংলায় দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করার কাজ শুরু করে দিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের সঙ্গে কথাও হয়েছে তাঁর।

পদ্ম ছেড়ে ঘরে ফেরার সময়  মুকুল রায় দলত্যাগ বিরোধী আইন মানেননি বলে অভিযোগ তুললেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, ‘‘মুকুল রায়কে দিয়ে যা শুরু হল, তা দলত্যাগ বিরোধী আইন মেনে হয়নি। দু’মাস হোক, তিন মাস হোক, বিরোধী দলনেতা হিসেবে বাংলায় এই আইন কার্যকর করেই ছাড়ব আমি।’’

উল্লেখ্য, যাবতীয় জল্পনা সত্যি করে শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে সপুত্র তৃণমূলে ফিরেছেন মুকুল। তবে জোড়াফুল পতাকা হাতে তুলে নিলেও এখনও পর্যন্ত মুকুল বিজেপি-র হয়ে জেতা কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেননি বলেই খবর। বিজেপি-র সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির পদ ছাড়তে চেয়েও তাঁর কোনও চিঠি বিজেপি নেতৃত্বের কাছে পৌঁছয়নি বলে দলীয় সূত্রে খবর। তা না করেই দলবদল নিয়ে মুকুলের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হবে কি না, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট উত্তর মেলেনি গেরুয়া শিবির থেকে। এ নিয়ে প্রশ্ন করলেও তেমন কোনও চিন্তাভাবনা নেই বলে জানান দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, ‘‘আমরা এমন কিছু ভাবছি না। উনি এক জন বিবেচক মানুষ। কী সিদ্ধান্ত নেন দেখি।’’

কিন্তু দিলীপের মতো কোনও রাখঢাক করতে চাইছেন না শুভেন্দু। তিনি আপাতত দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করাতে ব্যস্ত।

মুকুলের তৃণমূলে ফেরা নিয়ে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দল ভাঙানোর রাজনীতি করার অভিযোগ এনে শুভেন্দু বলেন, ‘‘মাননীয়া যেটা করছেন, কংগ্রেসের বিধায়ক তৃণমূলের খাতায়, সিপিএমের বিধায়ক তৃণমূলের খাতায়। মাননীয়া, তৃমমূল এবং বাংলার বিধানসভা আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইন প্রতিষ্ঠিত করার দায়িত্ব বিরোধী দলনেতার। দু’মাস লাগুক, তিন মাস লাগুক, দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করবই।’’

দল ভাঙানো নিয়ে মমতাকে আক্রমণ করে শুভেন্দু আরও বলেন, ‘‘এটা ওঁর দীর্ঘ দিনের রোগ। নিজের রাজত্বে কোনও বিরোধী শক্তি রাখতে চান না। তাই স্কুলের

নির্বাচন তুলে দিয়েছেন। চার বছর ধরে কলেজের ছাত্র সংসদের নির্বাচন হয়নি। ১১০টি পুরসভায় তিন বছর ধরে নির্বাচন হয়নি। পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রহসন করেছেন। ভোট লুঠ করেছেন। মনোনয়ন দিতে দেননি। গণনাকেন্দ্র দখল করেছেন। ২০১২ সাল থেকে বিধায়ক ভাঙিয়ে বিরোধীদের শেষ করার কাজ শুরু করেছেন। আগে সিপিএম এবং কিছু জায়গায় কংগ্রেস ছিল। এখন রাজ্যে একমাত্র বিরোধী দল বিজেপি। তাই নিশানা করা হচ্ছে।’’

শুভেন্দুর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত তৃণমূল শিবির থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দলত্যাগ বিরোধী আইন কার্যকর করাতে শুভেন্দু কতটুকু অগ্রসর হতে পারেন, সেটাই এখন দেখার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here